মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

কাকরকান্দি ইউনিয়নের পটভূমি

        গ্রামের নাম কিভাবে কাকরকান্দি হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে গ্রামের উত্তর থেকে মধ্য পর্যন্ত বিস্তৃত মাঠ একদা ‘বালুচত্বর’ নামে অভিহিত হতো। বালি যদি কাকর হয়, আর চত্বর যদি স্তর/স্ত্তপ বা ‘টিবি’ হয়-যাকে এ অঞ্চলে ‘কান্দি’ বলে; তাহলে কাকরকান্দি নাম যে বালু চত্বর থেকেই হয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই।

  

        কাকরকান্দি ইউনিয়নের ইতিহাস অতি সু-প্রাচীন। গারো, হাজং, কোচ, বানাই, মর্গান, ডালু ও হাদিরা এ অঞ্চলে বাস করতো। কিছু সংখ্যক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বরুয়ারা বরুয়াজানি গ্রামে বাস করত। জনশ্রুতি আছে যে, একবার এই গ্রামে কলেরা রোগে অনেকে মারা গিয়েছিল। ভয়ে বরুয়ারা গ্রাম ত্যাগ করে সবাই চলে যায়। বরুয়াদের নামানুসারেই নাকি গ্রামের নাম বরুয়াজানী হয়েছিল। পাকিস্থান আমলেই এ এলাকায় মুসলমানদের আগমন ঘটে। ১৯৬৪ সনে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের গর্ভনর মোনায়েম খানের সময় এক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারনে এ এলাকায় উপজাতিরা একসাথে দল বেঁধে হঠাৎ করেই ভারতের মেঘালয় এবং আসাম রাজ্যে চলে যায়। প্রতিশোধ স্বরূপ আসাম এবং মেঘালয় থেকে বাংলাভাষী মুসলমানদেরকে তদানিন্তন ভারত সরকার এ এলাকায় পুশব্যাক করে। ভারত প্রত্যাগত মোহাজেরদেরকে কাকরকান্দি ইউনিয়নে উপজাতিদের ফেলে যাওয়া জমা-জমিতে পুনর্বাসিত করা হয়।

 

        ঔপনিবেশিক আমলে ১৯১৯ সনের স্থানীয় সরকার আইনে পঞ্চায়েত প্রথা বিলুপ্ত করে ইউনিয়ন বোর্ড গঠন করা হলে কাকরকান্দি ইউনিয়ন বোর্ড গঠিত হয়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হওয়ার পর ঔপনিবেশিক ব্যবস্থাই চালু ছিল। ১৯৫৯ সনে তদানিন্তন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র চালু করেন। নির্বাচনী এলাকা গঠনকল্পে কাকরকান্দি ইউনিয়নের প্রয়োজনীয় জনসংখ্যা কম ছিল বলে পার্শ্ববর্তী নালিতাবাড়ী ইউনিয়নের সাথে কাকরকান্দি ইউনিয়নকে যুক্ত করা হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক কারণে ১৯৯২ সনের ৪ মার্চ এক সরকারী প্রজ্ঞাপন মূলে নালিতাবাড়ী-কাকরকান্দি ইউনিয়নকে বিভক্ত করে দুটো ইউনিয়ন করা হয়। একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন হিসাবে কাকরকান্দি ইউনিয়ন বর্তমানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

 

       অবস্থান ও আয়তনঃ এ ইউনিয়নের মোট আয়তন ২৬ বর্গ কিলোমিটার। নালিতাবাড়ী উপজেলার উত্তরপূর্বাংশে অবস্থিত এ ইউনিয়নের উত্তর ও পশ্চিমে রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়ন, পূর্বে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলা, দক্ষিনে নালিতাবাড়ী ইউনিয়ন।নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৯ কিলোমিটার।

 

        মাটিঃ উপরিস্তরে উপরিস্তরে বাদামী রংয়ের ঝুরঝুরে দো-আঁশ মাটি। মাটির প্রতিক্রিয়াঅধিক অম্ল। মধ্যস্তরে গাঢ় বাদামী রং্যের ঝুরঝুরে বেঁলে দো-আঁশ মাটি।নিম্নস্তরে গাঢ় বাদামী রং্যের বাদামী আলগা মাটি।

 

       জলবায়ুঃ বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানের মতো এ উপজেলায়ও ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ুরঅন্তর্গত। এখানে ছয় ঋতুর মধ্যে তিনটি মৌসুম জোড়ালোভাবে পরিলক্ষিত হয়।গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত।

 

            

ছবি



Share with :

Facebook Twitter